
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান: সেন্টমার্টিনের পথে প্রথম জাহাজ
কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টায় এমভি বার আউলিয়া ৮৩০ জন পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় পাঁচ দিন আগে পর্যটকদের জন্য দ্বীপটি উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলেও জাহাজ চলাচল শুরু না হওয়ার যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটলো।
জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্তটি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সহজ হয়নি। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্তও সংশয় কাটেনি। জেলা প্রশাসকের সম্মতি না মেলায় বৃহস্পতিবার থেকে জাহাজ চলাচল শুরু করা যাবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। বিশেষ করে আগাম টিকিট কেটা পর্যটকদের মধ্যে দেখা দেয় উদ্বেগ। শেষ পর্যন্ত বুধবার রাত ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মতি পাওয়ার পর জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর এবং জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। প্রথম দিন একটি জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়।
সরকারের সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পর্যায়েক্রমে চলাচল করবে এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি এবং এমভি টেকনাফ—এই তিনটি জাহাজ। তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায় কক্সবাজার থেকে ছাড়বে এবং দুপুর আড়াইটায় ফিরবে; এমভি কর্ণফুলি সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ফিরবে; এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ছাড়বে এবং বিকেল সাড়ে ৩টায় ফিরবে।
এবার সেন্টমার্টিন ভ্রমণ শুধু টিকিট কেটে জাহাজে ওঠার বিষয় নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্বও। সরকারের সংশোধিত নির্দেশনায় ১ নভেম্বর থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের যাতাযাত ও রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন। প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে এবং ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রাতে সমুদ্রসৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ। কেওয়াবনে প্রবেশ, কেওয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচাও করা যাবে না। সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ কোনো সামুদ্রিক প্রাণী বা উদ্ভিদের ক্ষতি করা যাবে না। সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যেকোনো যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ।
জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় পর্যটকদের জন্য স্বস্তি ফিরেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, নিয়মিত ও নিরাপদ নৌযাত্রার পাশাপাশি সরকারি বিধিনিষেধ যথাযথভাবে কার্যকর হবে। পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা গেলে সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও অক্ষত থাকবে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদ।
